কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় করবেন মাসে লাখ টাকা?

 

বর্তমান সময়ে ভিডিও দেখার জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এবং জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে ইউটিউব । এ সময়ে ভিডিও মানেই ইউটিউবকে বুঝাই । এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না, যিনি ইন্টারনেট ব্যবহার করেন কিন্তু ইউটিউব থেকে ভিডিও দেখেন না। শিক্ষা থেকে শুরু করে বিনোদন, খেলাধুলা, প্রযুক্তি, সংবাদ, রান্না। সাজসজ্জা ,ভ্রমণ থেকে শুরু করে প্রায় সবধরনের ভিডিও পাওয়া যায় ইউটিউবে। ইউটিউব যেমনি শিক্ষা-বিনোদনের এক অনন্য মাধ্যমে পরিণত হয়েছে, তেমনি ইউটিউব বর্তমান সময়ে অর্থ উপার্জনেরও একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। ইউটিউবে চ্যানেল তৈরি করে আপনি অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন ।

আপনাকে একজন সফল ইউটুবার হতে অবশ্যই কয়েকটি বিষয় নিয়ে গুরুত্ব দিতে হবে, সেগুলো নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১.  নিশ সিলেকশন :

একটি ইউটিব চ্যানেলের খোলার প্রথমেই ঠিক করতে হবে আপনি কি নিশ নিয়ে কাজ করবেন । যেমন শিক্ষা,খেলাধুলা, বিনোদন,গেমিং প্রযুক্তি, রান্না

ফ্যাশন, ভ্রমণ, ফানি ভিডিও সহ নানা বিষয় নিয়ে ইউটিউবে চ্যানেল তৈরি করতে পারেন। তবে যেকোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে ।; চ্যানেল তৈরি করলে দর্শকের কাছে তা বেশি গ্রহণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।; এখন ব্লগ এবং গেমিং ভিডিও বেশ জনপ্রিয়। তবে সবগুলো নিশেরই জনপ্রিয়তা রয়েছে ।; আপনি চাইলে এগুলো থেকে যেকোনো একটি নিয়ে কাজ করতে পারেন, তবে মনে রাখবেন অবশ্যই একটি নিশ নিয়ে কাজ করবেন।

২. ইউটিউব চ্যানেলের নাম নির্বাচন :

আপনার ইউটিউব চ্যানেল কে জনপ্রিয় করতে ।সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে চ্যানেলের সঠিক এবং ব্যান্ডিং নাম।

আপনার ভিডিওর বিষয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চ্যানেলের একটি স্বতন্ত্র নাম দিতে পারেন।; চ্যানেল এ আপনার চ্যানেল রিলেটেড ট্যাগ ব্যবহার করুন। যা আপনার চ্যানেলটি খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।

কিভাবে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের জন্য সুন্দর নাম নির্বাচন করবেন ?

 ৩.  কীভাবে আপনার ইউটিউব  চ্যানেলের ভিউ বাড়াবেন:-

আপনার ভিডিওতে যথাযথ ও আকর্ষণীয় শিরোনাম ও থাম্বনেইল যুক্ত করুন । থাম্বনেইল কে অনপেইজ এসইও করে নিবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে ভিডিওর দর্শকের সংখ্যা (ভিউ) বাড়াতে পারেন। ইউটিউবে ভিডিও প্রকাশের (আপলোড) সময় এন্ড স্ক্রিনে অন্য ভিডিও বা প্লে লিস্ট যুক্ত করুন। সঠিক ভিডিও ডেসক্রিপশন যোগ করুন , এবং ট্যাগ ব্যবহার করুন। বিভাগ অনুসারে ভিডিওগুলো প্লে লিস্টে সাজান। ট্যাগ রিসার্চে TubeBuddy আথবা VidgIQ–এর মতো টুলগুলো ব্যবহার করতে পারেন। তা ছাড়া আপনি পেইড বুস্টও (বিজ্ঞাপন) করতে পারবেন ।

সতর্কতা আপনাকে অবশ্যই কপিরাইট ও কমিউনিটি গাইডলাইন মানতে হবে। এ নির্দেশনাগুলো না মানলে আপনার মনিটাইজেশন (আয়) বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এমনকি আপনার চ্যানেলটি বন্ধও হতে পারে। কপিরাইট ও কমিউনিটি গাইডলাইনের তিনটি স্ট্রাইক থাকে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একেকটি স্ট্রাইকের জন্য ভিডিও মুছে যাওয়া, লাইভ স্ট্রিমিং বন্ধ হওয়া, ভিডিও আপলোড করতে না পারার মতো ঘটনা ঘটে। আর তৃতীয় স্ট্রাইকে চ্যানেল বন্ধ করা হয়। তবে আপনি যদি মনে করেন, আপনার কপিরাইট স্ট্রাইকটি ভুল করে দেওয়া হয়েছে—তাহলে কাউন্টার নোটিফিকেশন দিতে পারেন।

YouTube থেকে কত টাকা আয় করা যায় ?

ইউটিউব চ্যানেল দিয়ে অনেক ভাবে আয় করা যায় ( যেমন:- এডসেন্স দিয়ে, এফিলিয়েট করে, স্পন্সর নিয়ে ) তবে প্রাথমিক ভাবে আপনি শুধু এডসেন্স এর মাধ্যমে আয় করতে পারবেন । ইউটিউব চ্যানেল থেকে এডসেন্স দিয়ে টাকা উপার্জন আপনি তখন করতে পারবেন যখন আপনি নিজের চ্যানেল কে monetization এর জন্য চালু করবেন। কেবল তারপর আপনার ভিডিওতে যে বিজ্ঞাপন দেখানো হবে তার মাধ্যমে আপনি আয় করতে পারবেন।
এখন কথা হলো, আপনি ইউটিউবে চ্যানেল বানিয়ে এবং ভিডিও আপলোড করে কত টাকা আয় করতে পারবেন ? আপনার কি এতো ইনকাম হবে যে অন্য কোনো কাজ বা চাকরি না করলেও চলবে ?
দেখেন, ইউটুবে আপনি কত টাকা আয় করতে পারবেন তার সোজা হিসাব কেউ আপনাকে দিতে পারবেনা। কিন্তু হে, অনেক লোকে ১০০০ ভিউ তে ২ থেকে ৩ ডলার অব্দি পেয়ে যায়। মানে, যদি আপনার ভিডিওতে ১০০০ লোকে আপনার ভিডিও দেখেন তাহলে তাতে দেখানো বিজ্ঞাপনের দ্বারা আপনি ২ থেকে ৩ ডলার কামিয়ে নিতে পারবেন।

কত ভিউ হলে কত টাকাঃ

তাহলে এখন ভাবেন, যদি আপনার চ্যানেলে আপলোড করা ভিডিওতে ডেইলি মোট ৫০০০ ভিউ হয়ে থাকে। তাহলে আপনার প্রায় ১০ থেকে ১৫ ডলার বা তার থেকেও বেশি ইনকাম প্রতিদিন হতে পারে। আর যদি এরকম হয় তাহলে আমি মনেকরি অন্য কোনো চাকরি করার কোনো প্রয়োজন হবেনা। শুধু ইউটিউব দিয়ে আপনি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন, এবং ইউটিউব থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন ।
আজ অনেকেই ইউটুবে ভিডিও আপলোড করে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা কমিয়ে নিচ্ছেন। আর তা আপনিও পারবেন কিন্তু অল্প সময় লাগবে, তবে আপনার ধৈর্য ধরে লেগে থাকতে হবে ।। আপনি লক্ষ টাকা না কমাতে পারলেও একটা অনেক ভালো সংখ্যার ইনকাম Youtube চ্যানেল দ্বারা কামিয়ে নিতে পারবেন এবং অনায়াসে আপনার সংসার চালাতে পারবেন । কেবল ভালো ভালো ভিডিও বানিয়ে নিজের চ্যানেলে আপলোড করতে থাকুন। এতে আপনার ভিডিওতে আস্তে আস্তে ভিউ বাড়বে এবং YouTube সার্চ এ আপনার ভিডিও ভালো করে display হতে থাকবে।
তাহলে সোজাসোজি যদি বলা যায়, তাহলে আপনারা চ্যানেলে থাকা ভিডিওতে ;যদি ডেইলি টোটাল ১০০০ থেকে ৫০০০ ভিউ হয়। তাহলে আপনি ৫ থেকে ১০ ডলার রোজ ইনকাম করতে পারবেন।
এই টাকা কমানোর তালিকাটা আমি বিভিন্ন YouTuber ইনকাম দেখে আপনাকে বলেছি। তাই, আপনার ইনকাম আমি বলা মতো নাও হতে পারে। তবে ইংরেজি কনটেন্ট নিয়ে কাজ করলে এর থেকে বেশি ও ইনকাম হতে পারে । বাংলা কন্টেন্ট দিয়ে এডসেন্স দিয়ে ইনকাম কমই হয় Google এডসেন্সের বিজ্ঞাপন দ্বারা টাকা কামানো অনেক কিছু জিনিসের ওপর নির্ভর করে। এই জিনিসগুলির মধ্যে, “CPC”, “CTR” এগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপনার ইনকাম আমি বলার থেকে কম বা বেশিও হতে পারে।
এছাড়াও আপনি আপনার কনটেন্ট রিলেটেড বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে এফিলিয়েট করে কমিশন লাভ করতে পারেন।; অথবা আপনার নিজের পোডাক্ট বিক্রি করতে পারেন ।আপনার চ্যানেলটি যদি বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করে; তখন আপনি বিভিন্ন কোম্পানি হতে স্পন্সর নিয়ে অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন ;। তবে শুধু ইনকাম দেখলেই হবে না কষ্ট ও করতে হবে।

By BDTrick

One thought on “কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় করবেন মাসে লাখ টাকা? ২০২০”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *